বিজয়ার শুভেচ্ছা, বিজয়ের শুভেচ্ছা

আজ বিজয়া দশমী। ছোটবেলার এ দিনের স্মৃতি এখনো অম্লান। সকাল থেকেই সাজ সাজ রব। মাইকে বিভিন্ন গান বাজছে। তবে যে গান বারবার বাজত তা হল 
গাঙ্গে ঢেউ খেলে যায় 
ও কন্যা মাছ ধরিতে আয় 
জাল ফেলিতে যাইয়া কন্যা মরিস না।

কেন এই গান জানি না, তবে বারবার সবাই এই গানটির অনুরোধ করত। 

বাড়িতে কয়েকটি নৌকা ছিল। বড় নৌকায় প্রতিমা যেত বিসর্জনের জন্য। 

বিসর্জন হত কালীগঙ্গায়। তার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আরতি যাকে আমরা বলতাম আলতি। কে কত ভালো আলতি দিতে পারে তার প্রতিযোগিতা। আপাত পাঁচ দিনের হলেও প্রায় মাস ব্যাপী (প্রতিমা তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেবার দিন থেকে) আনন্দের যবনিকা নামত বিসর্জনের মধ্য দিয়ে, যদিও পরের দিনই দশহরা বা দোসরা (নাম ঠিক আছে কি? ইচ্ছে করেই উইকিপিডিয়া দেখছি না, স্মৃতি থেকে লেখার জন্য)। দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি যাওয়া, বড়দের প্রণাম, সমবয়সীদের সাথে কোলাকুলি করতে। আসলে বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে এক জনের বিদায় অন্য জনের আগমনের কারণে কখনো ঠিক কষ্টের হত না, বিদায়ের করুণ সুর আগমনী সুরে একাকার হয়ে যেত। আর বিদায় ঠিক বিদায় ছিল না, ছিল আগামী বছরের জন্য অপেক্ষার শুরু। সবাই মায়ের আগমনের অপেক্ষায় থাকত কিন্তু ভুলে যেত মা একা নন, অসুরকেও (মহিষাসুর) সঙ্গে নিয়ে আসবেন। 

আমরা সবসময়ই ভালোর, মঙ্গলের আশা করি। কিন্তু তার সাথে মন্দ বা অমঙ্গল যে ছায়ার মত আসতে পারে সেটা ভুলে যাই। আর এই অসতর্কতার মাশুল গুনতে হয় জনগণকে বারবার- ব্যক্তি, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় জীবনে। বিজয় কেমন হবে সেটা নির্ভর করে ভবিষ্যৎ কাজের উপর। 

সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা।

দুবনা, ২১ অক্টোবর ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

স্বাধীনতা

প্লট