প্লট

অনেক দিন পরে এক পরিচিত জনের সাথে দেখা। ব্যস্ততার মধ্যেও ভাবলাম দেখা যখন হয়েই গেল কোথাও বসে গল্প করা যাক। অনেক দিন পরিচিত মানুষদের দিয়ে পরনিন্দা পরচর্চা করা হয় না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন নিজেকে আর বাঙালি বলে পরিচয় দেয়া যাবে না। তাই একটা পার্কে বসে অতীতের দিনগুলো নিয়ে নস্টালজিক হলাম। কথা হল বর্তমান নিয়ে। 
- তোর জন্য খুব দুঃখ হয় দোস্ত।
- হঠাৎ আমার জন্য তোর ভালোবাসা উছলে পড়ল? মতলব কি?
একটু অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম।
- না মানে তুই লোকটা খারাপ না। এমনকি ভালোই বলা চলে। 
- তাহলে?
- কিন্তু ভালো হয়েও তোর বেহেশত ভাগ্য নেই।
- প্রথমত আমি বেহেশতে যেতে চাই সেটা তোকে কে বলল? আর বেহেশতের ভিসা পাব না সেটাই বা তুই জানলি কীভাবে?
- জানিস তো শুধু মুসলমানরা বেহেশতে যায়। অবশ্য তোর এখনও সেটা হবার সুযোগ আছে।
- তোর জন্য এবার আমার দুঃখ হচ্ছে।
- কেন?
- ইসলাম ধর্ম কবে এসেছে?
- দেড় হাজার বছর আগে।
- মানে এর আগে কেউ মুসলমান ছিল না। শেষ নবী ছাড়া তোদের অন্য কোন নবীরা মুসলমান ছিলেন না। তোর কথা অনুযায়ী তারা কেউই তাহলে বেহেশতে যাবেন না। 
- এটা তুই কি বললি?
- আমি কিছুই বললাম না। শুধু তুই যা বললি সেটার ভাব সম্প্রসারণ করলাম। 
- না রে, তোর সাথে তর্ক করব না। 
- ঠিক বলেছিস। বিশ্বাসে মিলায় ঈশ্বর, তর্কে বহুদূর।
- আজ চলি। দেখা হবে।
- সেই সম্ভাবনা কম।
- কেন?
- আমাদের দেখা সাক্ষাৎ এত দিন পর পর হয় যে পরবর্তী ডেটিং পর্যন্ত বেঁচে থাকব কি-না সন্দেহ। আর মরার পর তো তুই বেহেশতে হুর পরীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবি আর আমি ঘুরে বেড়াব তারায় তারায়। 
- তুই একটুও বদলালি না।
- তুইও আগের মত রয়ে গেছিস। আগে জিন্স, মশলা বিক্রি করতি, এখন বেহেশতের টিকেট আর প্লট বিক্রি করিস। ভালো থাকিস।

মস্কোর পথে, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

Comments

Popular posts from this blog

বিজয়ার শুভেচ্ছা, বিজয়ের শুভেচ্ছা

স্বাধীনতা