Posts

Showing posts from October, 2026

ভালো লাগা

Image
গতকাল বাসার নীচে কমার্শিয়াল ক্লিনিকে গেলাম পায়ের আঙ্গুলের একটি আঁচিলের গর্দান কর্তন করতে। সরকারি পলিক্লিনিকে কয়েক বার তরল নাইট্রোজেন দিয়ে আঁচিলটা পুড়িয়ে দিয়েছে, তবে হত্যা করতে পারেনি। যাহোক, ডেরমাটোলজিস্ট দেখে জিজ্ঞেস করলেন  - অপসারণ করব? - করুন। - আপনি ইন্ডিয়া থেকে? - না, বাংলাদেশ থেকে। আমরা প্রতিবেশী দেশ। - জানি। আমাদের ব্যাচে দুই জন বাংলাদেশী ছাত্র ছিল। - আচ্ছা! আপনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন? - ত্ভের মেডিক্যাল ইনস্টিটিউটে। ওরা ছিল ব্যাচের সেরা ছাত্র।  - আমাদের দেশ থেকে অনেকেই এখানে ভালো ফলাফল করে দেশে বিদেশে কাজ করে।  - কেন? দেশে সুযোগের অভাব? - সেটা আছে। তবে বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেকেই এক সময় ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এসব জায়গায় চলে যায়।  - আপনি কি জেআইএন আর এ কাজ করেন? - হ্যাঁ।  - ভালো লাগে? - এখানে আমি ৩২ বছর কাজ করছি। ভালো না লাগলে কি আর থাকি? - চিকিৎসা শেষ। কয়েক দিন বাসায় ড্রেসিং করতে হবে।  - অনেক ধন্যবাদ।  ওখান থেকে বেরিয়ে বেশ ভালো লাগলো। জানি না ও কোন সালে পাশ করেছে। বা কে ওর সহপাঠী ছিল। তবে বাংলাদেশের ছেল...

স্বাধীনতা

Image
গত রোববার রাতে অমলের মেসেজ পেলাম  - প্রফেসর, আমি আগামীকাল ১০ টায় আপনার সাথে দেখা করতে চাই। - ঠিক আছে। ৯.৩০ এ ডিপার্টমেন্টে আস।  অমল আমার পিএইচডি স্টুডেন্ট। আমেরিকান পাসপোর্টধারী ভারতীয়। কয়েক সপ্তাহ আগে আমার কাছে টোটাল ফ্রিডম চেয়েছিল। এরপর লাপাত্তা। স্বাধীনতা উপভোগ করছিল হয়তো। দেখা যাক স্বাধীনতা তাকে কি দিয়েছে। আসলে বাংলাদেশের তথাকথিত দ্বিতীয় স্বাধীনতার ফলাফল দেখার পর কোন স্বাধীনতার ফল আমাকে আর অবাক করবে বলে মনে হয় না। সকালে কথা মত ও এল। ইতিমধ্যে আরও দুই জন মাস্টার্স স্টুডেন্ট অপেক্ষা করছিল। অমল বেশ এক্সাইটেড।  - প্রফেসর, আমি অনেক ক্যালকুলেশন করেছি। এখন আপনি পার্মিশন দিলেই লিখতে শুরু করব।  - পার্মিশন দেয়া না দেয়া পুরোটাই তোমার উপর নির্ভর করছে।  - আমি এখন দুটো সময়ের উপর কাজ করছি। তিনটি স্পেস কর্ডিনেটের সাথে দুটো টাইম কর্ডিনেট। একটা প্রপার টাইম, আরেকটা কর্ডিনেট টাইম। - কিন্তু প্রপার টাইম তো নির্ভর করে ফ্রেমের উপর। ধর আমরা দুজন দুটো গাড়িতে আছি যারা পরস্পরের সাপেক্ষে সমান গতিতে দিক পরিবর্তন না করে চলছে। মানে দুটো ইনার্শিয়াল ফ্রেম। তোমার গাড়িতে তুমি স্থি...

আইন অমান্য

Image
গত সোমবার ক্লাস টেস্ট নিলাম। এই গ্রুপে এটাই প্রথম। সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের পরিচয়। তাই আমার সব পাগলামির সাথে ওরা এখনও পুরোপুরি পরিচিত হতে পারেনি।  সাধারণত কখনোই শতভাগ ছাত্রছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। তবে টেস্টে থাকে। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় না পড়িয়ে প্রতি সপ্তাহে টেস্টের ব্যবস্থা করলে কেমন হয়।  সবাই অপেক্ষা করছে প্রশ্ন পত্রের জন্য। এর আগে শতাধিক প্রশ্ন ওদের দিয়েছি প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।  - তোমরা নিজেদের খুশি মত যেকোন দুটো প্রশ্ন বেছে নিতে পার। প্রস্তুতি শেষ হলে আমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। তবে আমি এর উত্তর নাও শুনতে পারি। এর জায়গায় যেকোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি। সবাই মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল। নিজেদের প্রশ্ন নিজেরা করতে পারবে সেটা ওদের কল্পনার বাইরে। তবে প্রশ্ন করে উত্তর দিলেই যে উৎরে যাবে সেই গ্যারান্টি নেই। তাই আইডিয়াটা ভালো না মন্দ সেটাও ঠিক পরিষ্কার নয় ওদের কাছে। তবে এরচেয়েও বড় কথা উত্তর অনেকেই দিতে পারে কিন্তু সঠিক প্রশ্ন করতে পারে খুব কম লোকই।  - একটা হিন্টস দিচ্ছি। যত সহজ প্রশ্ন বেছে নেবে তত কঠিন প্রশ্ন আমার ঝুলিতে থাকবে জিজ্ঞেস করার জন্য। পরীক্ষা পঁচিশে, ...

প্লট

Image
অনেক দিন পরে এক পরিচিত জনের সাথে দেখা। ব্যস্ততার মধ্যেও ভাবলাম দেখা যখন হয়েই গেল কোথাও বসে গল্প করা যাক। অনেক দিন পরিচিত মানুষদের দিয়ে পরনিন্দা পরচর্চা করা হয় না। এভাবে চলতে থাকলে একদিন নিজেকে আর বাঙালি বলে পরিচয় দেয়া যাবে না। তাই একটা পার্কে বসে অতীতের দিনগুলো নিয়ে নস্টালজিক হলাম। কথা হল বর্তমান নিয়ে।  - তোর জন্য খুব দুঃখ হয় দোস্ত। - হঠাৎ আমার জন্য তোর ভালোবাসা উছলে পড়ল? মতলব কি? একটু অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম। - না মানে তুই লোকটা খারাপ না। এমনকি ভালোই বলা চলে।  - তাহলে? - কিন্তু ভালো হয়েও তোর বেহেশত ভাগ্য নেই। - প্রথমত আমি বেহেশতে যেতে চাই সেটা তোকে কে বলল? আর বেহেশতের ভিসা পাব না সেটাই বা তুই জানলি কীভাবে? - জানিস তো শুধু মুসলমানরা বেহেশতে যায়। অবশ্য তোর এখনও সেটা হবার সুযোগ আছে। - তোর জন্য এবার আমার দুঃখ হচ্ছে। - কেন? - ইসলাম ধর্ম কবে এসেছে? - দেড় হাজার বছর আগে। - মানে এর আগে কেউ মুসলমান ছিল না। শেষ নবী ছাড়া তোদের অন্য কোন নবীরা মুসলমান ছিলেন না। তোর কথা অনুযায়ী তারা কেউই তাহলে বেহেশতে যাবেন না।  - এটা তুই কি বললি? - আমি কিছুই বললাম না। শুধু তুই যা বললি ...

সমস্যা নিয়ে সমস্যা

Image
এবার পূজায় গিয়ে দেখি বেশ কয়েকজন ছেলে অপেক্ষা করছে আমার সাথে কথা বলার জন্য। ওরা বিভিন্ন শহরে প্রিপারেটরি শেষ করে মস্কো এসেছে। ওদের একজনের ভিসা সমস্যা। ওর পাসপোর্টের মেয়াদ শেষের পথে বলে স্বল্পকালীন ভিসা দিয়েছে। ওর প্রশ্ন যে সময়ের জন্য ভিসা দিয়েছে পাসপোর্টের মেয়াদ তো তার পরেও আছে। বললাম, ভিসা এমন ভাবে দেয় যেন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবার আগই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাসের মেশিন সমস্যায় এখানে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করছে না। ফলে সে জরুরি ভিত্তিতে দেশে গিয়ে পাসপোর্ট করে এসেছে। এখন ঐ পাসপোর্টে ভিসা ট্র্যান্সফার করতে সমস্যা। ওদের ধারণা আমি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারব। কোন এক বিষয়ে বড় ডিগ্রি থাকার পরেও অন্য বিষয়ে কেউ যে মূর্খ হতে পারে এটা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। অথচ এসব ব্যাপারে আমি গন্ডমুর্খ। সাধারণত পরিচিত যারা এসব ব্যাপারে পারদর্শী তাদের বলি সাহায্য করতে। আগে শানু ছিল। ও মারা যাবার পর থেকে আমার এই চ্যানেলটা বন্ধ। তাছাড়া কেউ সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। তাই বললেই যে কেউ সেটা করতে পারবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। সমস্যা হল ছেলেটি সমস্যাটা ঠিক বুঝতে পারছে না। ইনস্টিটিউট ওকে বলছে ...

বিজয়ার শুভেচ্ছা, বিজয়ের শুভেচ্ছা

Image
আজ বিজয়া দশমী। ছোটবেলার এ দিনের স্মৃতি এখনো অম্লান। সকাল থেকেই সাজ সাজ রব। মাইকে বিভিন্ন গান বাজছে। তবে যে গান বারবার বাজত তা হল  গাঙ্গে ঢেউ খেলে যায়  ও কন্যা মাছ ধরিতে আয়  জাল ফেলিতে যাইয়া কন্যা মরিস না। কেন এই গান জানি না, তবে বারবার সবাই এই গানটির অনুরোধ করত।  বাড়িতে কয়েকটি নৌকা ছিল। বড় নৌকায় প্রতিমা যেত বিসর্জনের জন্য।  বিসর্জন হত কালীগঙ্গায়। তার আগে দীর্ঘ সময় ধরে আরতি যাকে আমরা বলতাম আলতি। কে কত ভালো আলতি দিতে পারে তার প্রতিযোগিতা। আপাত পাঁচ দিনের হলেও প্রায় মাস ব্যাপী (প্রতিমা তৈরির জন্য প্রস্তুতি নেবার দিন থেকে) আনন্দের যবনিকা নামত বিসর্জনের মধ্য দিয়ে, যদিও পরের দিনই দশহরা বা দোসরা (নাম ঠিক আছে কি? ইচ্ছে করেই উইকিপিডিয়া দেখছি না, স্মৃতি থেকে লেখার জন্য)। দল বেঁধে বাড়ি বাড়ি যাওয়া, বড়দের প্রণাম, সমবয়সীদের সাথে কোলাকুলি করতে। আসলে বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে এক জনের বিদায় অন্য জনের আগমনের কারণে কখনো ঠিক কষ্টের হত না, বিদায়ের করুণ সুর আগমনী সুরে একাকার হয়ে যেত। আর বিদায় ঠিক বিদায় ছিল না, ছিল আগামী বছরের জন্য অপেক্ষার শুরু। সবাই মায়ের...