আইন অমান্য
গত সোমবার ক্লাস টেস্ট নিলাম। এই গ্রুপে এটাই প্রথম। সেপ্টেম্বর থেকে আমাদের পরিচয়। তাই আমার সব পাগলামির সাথে ওরা এখনও পুরোপুরি পরিচিত হতে পারেনি।
সাধারণত কখনোই শতভাগ ছাত্রছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। তবে টেস্টে থাকে। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় না পড়িয়ে প্রতি সপ্তাহে টেস্টের ব্যবস্থা করলে কেমন হয়।
সবাই অপেক্ষা করছে প্রশ্ন পত্রের জন্য। এর আগে শতাধিক প্রশ্ন ওদের দিয়েছি প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।
- তোমরা নিজেদের খুশি মত যেকোন দুটো প্রশ্ন বেছে নিতে পার। প্রস্তুতি শেষ হলে আমাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। তবে আমি এর উত্তর নাও শুনতে পারি। এর জায়গায় যেকোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি।
সবাই মনে হয় আকাশ থেকে পড়ল। নিজেদের প্রশ্ন নিজেরা করতে পারবে সেটা ওদের কল্পনার বাইরে। তবে প্রশ্ন করে উত্তর দিলেই যে উৎরে যাবে সেই গ্যারান্টি নেই। তাই আইডিয়াটা ভালো না মন্দ সেটাও ঠিক পরিষ্কার নয় ওদের কাছে। তবে এরচেয়েও বড় কথা উত্তর অনেকেই দিতে পারে কিন্তু সঠিক প্রশ্ন করতে পারে খুব কম লোকই।
- একটা হিন্টস দিচ্ছি। যত সহজ প্রশ্ন বেছে নেবে তত কঠিন প্রশ্ন আমার ঝুলিতে থাকবে জিজ্ঞেস করার জন্য।
পরীক্ষা পঁচিশে, পাশ মার্ক তের। আমি সাধারণত কাউকে ফেল করাই না। একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকি ১৩ না পাওয়া পর্যন্ত। তবে আজই প্রথম বেশ কয়েকজনকে ৭, ৮, ৯, ১০ বসালাম। ওরা যে কিছু জানে না তা নয়, জানে মানে মুখস্থ বলতে পারে। কিন্তু বললেই যে বোঝে তা নয়। ভেবে দেখলাম ফেল করলে পাশ করার আগ্রহ জাগে, কিন্তু টেনেটুনে পাশ করলে বেশি জানার আগ্রহ গড়ে ওঠে না। এটা অনেকটা নিঃশর্ত ভাবে সাহায্য করার মত, তাতে সমস্যা থেকে আপাতত উৎড়ে যাওয়া যায় কিন্তু দায়িত্ব বোধ জাগে না। ফলে এমন সাহায্য উল্টো ক্ষতি করে। তবে সমস্যা হল যদি এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি।
ছাত্রজীবনে আমি ক্লাস কামাই দিতাম না। মূল কারণ ক্লাসে না গিয়ে সময় কীভাবে কাটাব সেটা ভেবে পেতাম না। এখানে অসুস্থ হলে ডাক্তাররা কড়া নির্দেশ দেন ঘরে থাকার জন্য। শুধু নিজের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, অন্যদের যাতে সংক্রামিত না করি সেজন্য। মানতাম না। তবে চতুর্থ বর্ষে পড়ার সময় একবার ঠিক করলাম অসুস্থ অবস্থায় ঘরে কাটাতে। বই পড়ে, গান শুনে, চা খেয়ে সময় এত ভালো কাটল যে এরপর প্রায়ই ক্লাস ফাঁকি দিতে শুরু করলাম। নির্জনতা আমার বরাবরই পছন্দ, তবে সেটা লোকজনের মধ্যে থেকেই নিজেকে কাজে বা পড়ায় ব্যস্ত রেখে। জনশূন্য হোস্টেলের নির্জনতার আলাদা স্বাদ তখন বুঝলাম। হয়তোবা এ কারণেই আমি অফিসে যাই সেই সময় যখন বিল্ডিং ফাঁকা হয়ে যায়, লোকজন বেশিরভাগ বাসায় চলে যায়।
বললাম না নিজের নিয়ম ভাঙা সংক্রামক। আজ ওদের নম্বর জানিয়ে দিলাম। এটাও আমি কোনদিন করি না। এসব টেস্ট ওদের জাগিয়ে রাখার জন্য আর পরীক্ষার সময় এই নম্বরগুলো ব্যবহার করে মার্ক বাড়ানোর জন্য। এখন দেখতে হবে নতুন পদ্ধতি কোন সুফল বয়ে আনে কি না।
দুবনার পথে, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Comments
Post a Comment